ছোট অামলে বড় নিয়ামত : প্রত্যাহিক গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও দরুদ পাঠের ফজিলত

জিকির মানে আল্লাহতায়ালার স্মরণ। আল্লাহর জিকির সবচেয়ে বড় ও সর্বোত্তম ইবাদত; কেননা, আল্লাহতায়ালার স্মরণই হচ্ছে যাবতীয় ইবাদতের প্রধান ও অন্যতম লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহর স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।’ -সূরা আনকাবুত: ৪৫

পবিত্র কোরআনে কারিমের অন্যত্র আল্লাহতায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী- এদের জন্য আল্লাহ রেখেছেন ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।’ -সূরা আহজাব: ৩৫

তাই মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিৎ বেশি বেশি আল্লাহতায়ালার জিকির করা। জিকির বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেমরা বলেছেন, নিম্নে উল্লেখিত জিকিরগুলো নিয়মিত আদায় করলে মৃত্যুর পর জান্নাতপ্রাপ্তি ও আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়।

জিকিরগুলো হলো-
এক. প্রতিদিন ১০০ বার করে ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলে ১ হাজার সওয়াব লেখা হয় এবং ১ হাজার গুনাহ ক্ষমা করা হয়। -সহিহ মুসলিম: ৪/২০৭৩

দুই. ‘আলহামদুলিল্লাহ’র জিকির মিজানের পাল্লাকে ভারী করে দেয় এবং এটা সর্বোত্তম দোয়া। – তিরমিজি: ৫/৪৬২ ও ইবনে মাজা: ২/১২৪৯

তিন. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সর্বোত্তম জিকির। -তিরমিজি: ৫/৪৬২ ও ইবনে মাযা: ২/১২৪৯

চার. ‘সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ; ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার’ এই বাক্যগুলো আল্লাহতায়ালার নিকট অধিক প্রিয় এবং নবী করিম (সা.) বলেন, পৃথিবীর সমস্ত জিনিসের তুলনায় আমার নিকট অধিক প্রিয়। -সহিহ মুসলিম: ৩/১৬৮৫ ও ৪/২০৭২

পাঁচ. যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করবে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ (সগিরা) গুনাহ থাকলেও তাকে মাফ করে দেওয়া হবে। -সহিহ বোখারি: ৭/১৬৮

ছয়. নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি সুবহানাল্লিল আজিম’ এই কালেমাগুলো উচ্চারণে খুব সহজ, মিজানের পাল্লায় ভারী ও দয়াময় আল্লাহতায়ালার নিকট অতি প্রিয় । -সহিহ বোখারি: ৭/১৬৮

সাত. যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহিল আজিমি ওয়াবিহামদিহি’ পাঠ করবে প্রতিবারে তার জন্য জান্নাতে একটি করে (জান্নাতি) খেজুর গাছ রোপন করা হবে । -তিরমিজি: ৫/৫১১

আট. নবী করিম (সা.) বলেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ’ হচ্ছে জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের মধ্যে একটি গুপ্তধন। -সহিহ বোখারি: ১১/২১৩

নয়. নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ’- এই কালেমাগুলো হচ্ছে অবশিষ্ট নেকআমলসমূহ। -আহমাদ: ৫১৩

দশ. হজরত নবী করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পাঠ করলেই দরুদ পাঠের বরকত পাওয়া যাবে।

নবী করিম (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি সকালে দশবার এবং বিকেলে দশবার দরুদ পাঠ করবে সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ পাবে। -আত-তারগিব ওয়াত তারহিব: ১/২৭৩
একবার হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩টি তাসবিহ পড়ার নসিহত পেশ করেন। এ তাসবিহগুলোকে তাসবিহে ফাতেমি বলা হয়। আর তাহলো- سُبْحَانَ الله (সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার)اَلْحَمْدُ لِلّه (আল-হামদুলিল্লাহ ৩৩ বার)اَللهُ اَكْبَر (আল্লাহু আকবার ৩৩/৩৪বার)

এ তাসবিহ প্রসঙ্গে প্রিয়নবির ঘোষণাটি ছিল এমন-হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একবার গম পেষার চাক্কি ঘুরানোর কারণে হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাতে ফোস্কা পড়ে যায়। তখন তিনি একজন খাদেম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়েছিলেন কিন্তু তাকে পেলেন না।

তাঁর আসার উদ্দেশ্যটি হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জানালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘরে আসলেন, তখন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে হজরত ফাতেমার আবেদনের বিষয়টি জানালেন।

অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের (ঘরে) কাছে এমন সময় আসলেন যখন আমরা বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করছি। তখন আমি উঠতে চাইলে প্রিয়নবি বললেন, নিজ জায়গায়ই থাকো। তারপর প্রিয়নবি আমাদের মাঝে এমনভাবে বসলেন যে, আমি তাঁর দু'পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল বলে দেব না; যা তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও অনেক বেশি উত্তম।

(তিনি বলেন) যখন তোমরা (রাতে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে) বিছানায় যাবে, তখন তোমরা আল্লাহু আকবার (اَللهُ اَكْبَر) ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ الله) ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ (اَلْحَمْدُ لِله) ৩৩ বার পড়বে।

এটা তোমাদের জন্য একজন খাদেমের চেয়েও অনেক বেশি মঙ্গলজনক। ইবনে শিরিন বলেন, তাসবিহ ৩৪ বার। (বুখারি)

উল্লেখ্য যে, তাসবিহে ফাতেমির প্রচলন এত বেশি যে মুসলিম উম্মাহর অনেকেই প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর এ তাসবিহ বেশি বেশি আদায় করে থাকে। আর তাসবিহে ফাতেমির বাক্যগুলোর সবই আল্লাহর প্রশংসামূলক বাক্য।

দরুদ শরীফ গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এ আমলের মাধ্যমে একসঙ্গে আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। এটি মুমিনের আত্মার খোরাক এবং প্রিয় তাসবিহ। হাদিস শরিফে দরুদ পড়ার পদ্ধতি, উপকারিতা, না-পড়ার ক্ষতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ রয়েছে। পবিত্র কোরআনেও এর ব্যাপক তাগিদ রয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্য রহমতের দোয়া কর এবং তার প্রতি সালাম পাঠাও।’ –সূরা আহজাব: ৫৬

বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালা মুমিনদের হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার নির্দেশ দান করেছেন। তবে অন্যান্য নির্দেশের তুলনায় এ নির্দেশের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে। আর সেটি হচ্ছে, আল্লাহতায়ালা কর্তৃক হজরত নবী করিম (সা.)-এর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত করা হয়েছে। কেননা আল্লাহতায়ালা তাদের এমন এক মর্যাদাপূর্ণ কাজে শরিক করে নিয়েছেন, যে কাজটি তিনি নিজেও করেন এবং তার ফেরেশতারাও করেন।

দরুদ শরীফ পাঠের ফজিলত অনেক। মহানবী (সা.) নিজেই বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহতায়ালা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ –সহিহ মুসলিম

শুধু তাই নয়, নাসায়ি ও তিবরানিতে আরেকটু বাড়িয়ে এভাবে বলা হয়েছে- তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, তাকে দশটি নেকি দান করেন এবং তার আমলনামা থেকে দশটি গোনাহ মুছে ফেলেন। হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনা থেকে বের হয়ে কোনো এক খেজুর বাগানে ঢুকে পড়লেন। আমি তার পেছন অনুসরণ করলাম। অতঃপর তিনি সিজদারত হলেন। তার সিজদা খুবই দীর্ঘায়িত হলো। এমনকি আমি এতে খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হলাম, না জানি আল্লাহপাক তাকে মৃত্যুদান করলেন অথবা জান কবজ করে নিলেন। তারপর আমি তার খুব কাছে গিয়ে দেখতে লাগলাম। তিনি মাথা উঠিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আবদুর রহমান! তুমি এখানে কেন এসেছো? আবদুর রহমান বলেন, আমি আমার ভীতিকর অবস্থার কথা বললাম। অতঃপর তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে জিবরাইল (আ.) আমাকে বলেছেন, ‘আমি কি আপনাকে সুসংবাদ দেব না? নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা বলেন, যে ব্যক্তি আপনার প্রতি দরুদ শরিফ পড়ে আমি তার প্রতি রহমত বর্ষণ করি। আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পেশ করে আমি তার শান্তি বিধান করি। -মুসনাদে আহমাদ


দরুদ শরিফ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। কেউ ঐকান্তিকভাবে এ আমল করলে সে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসায় সিক্ত হবেই। এতে মহানবী (সা.)-এর পাশাপাশি আল্লাহতায়ালাও বান্দার প্রতি রহমতের দৃষ্টিপাত করেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কেয়ামতের দিন আমার সুপারিশের নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে যে আমার প্রতি অধিক মাত্রায় দরুদ পাঠ করবে। -সুনানে তিরমিজি

হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘দোয়া আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে স্থগিত থাকে; যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করবে না, ততক্ষণ উপরে উঠবে না।’ –মেশকাত

দরুদ শরীফ পাঠ করার অনেক নিয়ম-পদ্ধতি রয়েছে। নামাজের মধ্যে প্রসিদ্ধ দরুদ (দরুদে ইবরাহিম) শরিফটি পাঠ করা সুন্নত, এটি সুন্নতে মোয়াক্কাদা। তবে সাধারণত কোনো স্থানে হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর নাম যখন উচ্চারণ করা হবে তখনই তার প্রতি দরুদ শরিফ পড়া ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে ওলামায়ে কেরাম হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দলিল হিসেবে পেশ করেন। তিনি বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হয় সে যেন ত‍ৎক্ষণাৎ আমার ওপর দরুদ শরিফ পড়ে।’ -জামেউস সগির

তবে একই মজলিসে বারবার নাম উচ্চারিত হলে একবার দরুদ পাঠ করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়, তবে প্রতিবার পাঠ করা মুস্তাহাব। এছাড়া সপ্তাহের যে কোনো দিন কিংবা যে কোনো সময় ওজু করে ঐকান্তিকভাবে দরুদ শরিফ পড়া অনেক পুণ্যের কাজ। জুমার দিন ও রাতে দরুদ শরিফ পড়া খুবই কল্যাণকর। 

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জুমার দিনে ও রাতে আমার প্রতি বেশি করে দরুদ পড়। যে ব্যক্তি এরূপ করবে আমি কেয়ামতের দিন তার পক্ষ অবলম্বন করব, তার পক্ষে সাক্ষ্য দেব এবং তার জন্য সুপারিশ করব। -জামেউস সগির

রাসূলে কারিম (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর দৈনিক ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে জান্নাতের ঠিকানাটি না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।’ –তারগিব

হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর ওপর দরুদ না পড়ার ক্ষতি প্রসঙ্গে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তাতে হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর নাম উল্লেখ হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি দরুদ শরিফ না পড়ে এবং যে মজলিসে বা আলোচনা সভায় মোটেও দরুদ শরিফ পড়া হয় না তাহলে ওই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ওই মজলিস অকল্যাণকর ও আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার নাম উল্লেখ করা সত্ত্বেও দরুদ পড়ে না যারা তাদের কৃপণ, অপমানিত ও দুঃখিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দরুদ শরিফ পড়ে না, হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) তার প্রতি অভিশাপ দেন এবং সে আল্লাহর নৈকট্য লাভ থেকে বঞ্চিত হয়।

বায়হাকি শরিফে এসেছে, ‘নামাজের মধ্যে দরুদ না পড়লে সে নামাজ কবুল হয় না।’ তদুপরি কোনো দোয়ায় দরুদ না পড়লে সে আমল আল্লাহর আরশ পর্যন্ত পৌঁছায় না। এমনকি ভুলে গেলেও ধমকি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না। 

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরুদ পড়তে ভুলে গেল সে বেহেশতের পথই ভুলে গেল।’ -বায়হাকি

হজরত রাসূলে আকরাম (সা.) আমাদের হাদিয়া, তোহফা তথা দরুদ ও সালামের মুখাপেক্ষী নন। এর কারণ, তিনি নিজেই রাহমাতুল্লিল আলামিন, বিশ্বজাহানের জন্য দয়ার সাগর। আমাদের দরুদ ও সালাম পাঠানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকে সম্মান করা, তাজিম করা, তাকে ভালোবাসা এবং তার নাম বুলন্দ করা। তার এ অনন্য সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহতায়ালাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম পাঠানোর বিনিময়ে বহুগুণে যে প্রাপ্তি, তা আমাদের নিজেদেরই। 

বস্তুত, হজরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর মহব্বত অর্জন এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তার আদর্শ-সুন্নত অনুসরণের যে চেষ্টা-সাধনা ও অনুশীলন-প্রকৃতপক্ষে সেটিই ঈমানের মেহনত।

ওপরে বর্ণিত ফজিলত ও প্রতিশ্রুত পুরস্কারসমূহ অর্জন করার অভীষ্ট লক্ষ্যে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত উল্লেখিত জিকিরসমূহ নিয়মিত আদায় করা।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হাইকোর্ট মাজার: হযরত খাজা শরফুদ্দিন চিশতী(রাহঃ) এঁর জীবনী

গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এঁর জীবনী

হযরত শাহ্ মখদুম রূপস (রাহঃ) এঁর জীবনী