কুরববানির সাথে অাকীকা দেয়া কি জায়েয?
কুরবানি ও আকীকা আলাদাভাবে করা উচিৎ। তবে একত্রে করলে আদায় হবে না তানয়। একত্রে করলেও কুরবানী-আকীকা দুটোইআদায় হবে। কারণ আকীকাও এক ধরনেরকুরবানী। হাদীস শরীফে আকীকার উপরও ‘নুসুক’ শব্দের প্রয়োগ হয়েছে। আর এখানে ‘নুসুক’ অর্থকুরবানী। হাদীসের আরবী পাঠ এই-
سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة، فقال : لا أحب العقوق كأنه كره الاسم، قالوا يا رسول الله! نسألك عن أحدنا يولد له، فقال : من أحب منكم أن ينسك عن ولده فليفعل، على الغلام شاتان مكافأتان، وعلى الجارية شاة.
(দ্র. আলমুসান্নাফ, আব্দুর রাযযাক : ৭৯৬১; আলমুসনাদ, আহমদ : ৬৭১৩, ৬৭২২; আসসুনান, আবু দাউদ (আকীকা অধ্যায়) ২৮৪২; আস-সুনান, নাসায়ী : ৭/১৬২, ১৬৩; আলমুসান্নাফ, ইবনে আবীশাইবা ১২/৩২৪ হাদীস : ২৪৭২৭; আলমুসতাদরাক, হাকিম, ৫/৩৩৭, হাদীস : ৭৬৬৬)
سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن العقيقة، فقال : لا يحب الله العقوق، من ولد له منكم ولد فأحب أن ينسك عنه فليفعل.
(দ্র. আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা ১২/৩২১, হাদীস : ২৪৭২২; আলমুয়াত্তা, ইমাম মালিক, আকীকা অধ্যায়, হাদীস : ৬৫৮)
আকীকাও যখন এক প্রকারের কোরবানী তখনএকটি গরু বা উট দ্বারা একাধিক ব্যক্তির (সাতজন পর্যন্ত)
আলাদা-আলাদা কুরবানী আদায় হওয়ারহাদীসগুলো থেকে কুরবানী-আকীকা একত্রেআদায়ের অবকাশও প্রমাণিত হয়। এটা শরীয়তেরপক্ষ হতে প্রশস্ততা যে, গরু বা উটের ক্ষেত্রে একটি‘জবাই’ সাত জনের সাতটি জবাইয়ের স্থালাভিষিক্তগণ্য হয়। একারণে একটি উট বা গরু সাত জনেরপক্ষে যথেষ্ট হয়।
সহীহ মুসলিমে সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমরা হজ্বের ইহরাম বেঁধেআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরসাথে বের হলাম। তিনি আমাদেরকে আদেশকরলেন যেন প্রত্যেক উট ও গরুতে সাতজন করেশরীক হয়ে কুরবানী করি।’-সহীহ মুসলিম, কিতাবুলহজ্ব, হাদীস : ১৩১৮/৩৫১
خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مهلين بالحج، فأمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نشترك في الإبل والبقر، كل سبعة منا في بدنة.
অন্য বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘(একটি) গরু সাতজনের পক্ষহতে এবং (একটি) উট সাতজনের পক্ষ হতে(কুরবানী করা যাবে)।’
البقرة عن سبعة والجزور عن سبعة.
-আস-সুনান, আবু দাউদ, হাদীস : ২৮০১, কিতাবুল আযাহী
সারকথা, ‘নুসুক’ বা কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীয়তেরপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি এই যে, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বারক্ষেত্রে একটি ‘জবাই’ (إراقة الدم) দ্বারা একটিকুরবানী আদায় হলেও উট ও গরুর ক্ষেত্রে একটি‘জবাই’ দ্বারা সাতটি কুরবানী আদায় হতে পারে।অর্থাৎ এখানে ‘জবাইয়ে শরীক হওয়া’ও (সর্বোচ্চসাত জনের) কুরবানী আদায়ের পক্ষে যথেষ্ট।আকীকাও যেহেতু ‘নুসুক’ বা কুরবানী তাই এমূলনীতিতে আকীকাও শামিল থাকবে। সুতরাং‘একটি পশু জবাই’ করা দ্বারা যেমন তা আদায়হবে, তেমনি নির্ধারিত নিয়মে ‘জবাইয়ে শরীকহওয়ার’ (شركة في دم) দ্বারাও তা আদায় হবে।
সুতরাং এ প্রশ্নের অবকাশ নেই যে, ‘আকীকায় তোপশু জবাই করতে বলা হয়েছে। অতএব অন্ততএকটি পশু জবাইয়ের দ্বারাই তা আদায় হতেপারে।’ কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে পশু জবাই (إراقة الدم)-এর দায়িত্ব যেমন একটি পশু জবাই করারদ্বারা আদায় হয় তেমনি নির্ধারিত পশুতে ‘শরীকহওয়ার’ দ্বারাও (شركة في دم) আদায় হয়।আকীকার ক্ষেত্রে এই মূলনীতি প্রযোজ্য নয় বলেদাবি করলে ব্যতিক্রমের বিধানসম্বলিত দলীললাগবে। আমাদের জানামতে এমন কোনো দলীলনেই।
থাকল, দুই ধরনের কুরবানী এক পশু দ্বারা আদায়হওয়ার প্রশ্ন, তো এটি একটি ইজতিহাদী বিষয়।একারণে মুজতাহিদ ইমামগণের মাঝে এ বিষয়েকিছু মতপার্থক্যও আছে। কিন্তু নস বা কুরআন-সুন্নাহর সুষ্পষ্ট কোনো বিধানে এ বিষয়ে নিষেধআছে বলে আমাদের জানা নেই; বরং অনুমোদনেরপক্ষে হাদীস-আছারের দলীল আছে। পক্ষে বিখ্যাততাবেয়ী ইমাম ‘আতা ইবনে আবী রাবাহ রাহ. এরফতোয়াটিই সম্ভবত বিজ্ঞজনের যথেষ্ট হবে। তিনিবলেছেন, ‘উট ও গরু সাতজনের পক্ষ হতে কুরবানীহতে পারে। আর এতে শরীক হতে পারেকুরবানীকারী, তামাত্তু হজ্বকারী এবং হজ্বের ইহরামগ্রহণের পর হজ্ব আদায়ে অপারগ ব্যক্তি।

মন্তব্যসমূহ